আইএফসিকে বাংলাদেশের ‘বন্ড মার্কেট’ বিকাশে সহযোগিতার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর


News Desk
আইএফসিকে বাংলাদেশের ‘বন্ড মার্কেট’ বিকাশে সহযোগিতার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ বিশেষ করে বন্ড মার্কেট উন্নয়নের জন্য  ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মু্স্তফা কামাল। বাংলাদেশের বিষয়গুলো অবশ্যই ইতিবাচকভাবে দেখা হবে জানিয়ে আইএফসিও আশ্বস্ত করে।

বিশ্ব ব্যাংক–আইএমএফ এর বার্ষিক সভা-২০২০ এর অংশ হিসাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মু্স্তফা কামালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও আইএফসি এর চিফ অপারেটিং অফিসার মিসেস স্টিফানি ফন ফ্রিডবার্গের নেতৃত্বে আইএফসি’র প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে অর্থমন্ত্রী, বিশ্ব ব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম, আব্দুর রউফ তালুকদার, সিনিয়র সচিব, অর্থবিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের পক্ষে মিসেস স্টিফানি ফন ফ্রিডবার্গ ও এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি: আলফোনসো গার্সিয়া মোরা এবং বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েন্ডি ওয়ার্নার আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।

সভায় অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে অব্যাহত সহযোগিতার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আইএফসির অবদানের প্রশংসা করেন। এছাড়া  কোভিড -১৯ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলিকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার সাম্প্রতিক উদ্যোগের জন্যও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী কোভিড-১৯ এর টিকা আবিষ্কারের সাথে সাথে বাংলাদেশের মানুষের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অত্যন্ত আগ্রহী এবং বদ্ধপরিকর, তাই এ বিষয়েও আইএফির করণীয় নিশ্চিতে তিনি আহ্বান জানেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন,  কোভিড -১৯ নির্বিচারে বিশ্ব অর্থনীতি ও মানবজীবন হুমকির সম্মুখীন করেছে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ আয়ের দেশ অর্জনের প্রত্যাশায় আত্মবিশ্বাসী। বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে কোভিড ১৯ এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে আবার পুনরুদ্ধার করতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকৃতি জানাই। উদ্যোগগুলির মধ্যে জিডিপির ৪.৩% সমতুল্যের ১৪.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রনোদনা প্যাকেজ অন্যতম।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, গত বছর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বিশ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বন্ড জারি করতে আইএফসির সহায়তা এবং সহযোগিতায় বিশ্বে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক ভিত্তিতে ৮০৭ মিলিয়ন টাকা (৯.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সমপরিমান বাংলাদেশি ‘টাকা বন্ড’ চালু করা হয়েছিল, যা আগামী এক বছরে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন টাকা (১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যমানের বন্ডে উন্নীত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল আইএফসি। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত ছিল কারণ এটি আন্তর্জাতিক বাজারে জারি করা প্রথম বাংলাদেশি টাকা বন্ড। পরবর্তীতে করোনার কারণে এটি কিছুটা স্তিমিত হয়ে গেলেও আশা করা যায় এখন আবার আইএফসি এ খাতটি সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আইএফসি-কে বাংলাদেশকে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য বিশেষত মহামারি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া বেসরকারি খাতকে প্রণোদিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

পাশাপাশি আইএফসিকে সুদের হার হ্রাস করার অনুরোধ করছি যাতে বেসরকারি খাত স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাবর্তন করতে পারে।