মাফিয়া সাম্রাজ্যের গডফাদার!


News Desk
মাফিয়া সাম্রাজ্যের গডফাদার!
  • Font increase
  • Font Decrease

সংসদ সদস্যের পুত্র কিংবা জামাতা কিংবা নাগরিক প্রতিনিধি (কাউন্সিলর) নয়, তাকে বলতে হয় মাফিয়া সাম্রাজ্যের গডফাদার! হাতে ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতা, যা অপব্যবহার করে বানিয়েছেন বিস্তর অর্থ, বিত্ত, সম্পদ। তাতেও সন্তুষ্ট হন নি। টর্চার ক্যাম্প, প্রাইভেট বাহিনী, নিজস্ব টেলি নেটওয়ার্ক, অস্ত্র দিয়ে কায়েম করেন ত্রাসের রাজত্ব। 

পুরান ঢাকার এই তরুণ কাউন্সিলর এখন আইনের আওতায়। 'কেঁচো খুঁড়তে সাপ' পাওয়ার মতো বের হয়ে এসেছে তার অপকর্মের ভয়ঙ্কর ফিরিস্তি। রাজধানী ঢাকার প্রকাশ্য রাজপথে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধোরের ঘটনার সূত্র ধরে বের হয় থলের বেড়াল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তড়িৎ পদক্ষেপে আটক হন তিনি। পর্দা খুলে যায় তার অন্ধকার জগতের।

কাউন্সিলরের পদ হারিয়ে তিনি এখন কারাগারে। তার ক্ষমতাবান পিতাও লাপাত্তা। কিন্তু তার নামে আতঙ্ক এখনো পুরনো ঢাকার ঘরে ঘরে, মানুষের মনে। মানুষ আপাত স্বস্তি পেলেও কাটেনি ভীতি।

সংসদ সদস্য পিতা এক সময় বিএনপি করতেন। পরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় এসে রাজনীতির উত্থান ঘটান। জায়গা-জমি দখল, পার্ক-হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সম্পত্তি কব্জা করার মাধ্যমে গড়ে তুলেন টাকার পাহাড়। বুড়িগঙ্গার মতো ঐতিহ্যবাহী নদীর অনেকাংশ পর্যন্ত দখলে নিয়ে নেন। সন্ত্রাসের মাধ্যমে তৈরি করেন ত্রাস। জনপ্রতিনিধির সাইনবোর্ড লাগিয়ে জনস্বার্থ হানিকর যাবতীয় কাজে ছিলেন পারঙ্গম।

পিতার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে যান রক্ত-গরম পুত্র। কাউন্সিলর হয়েও দাপিয়ে বেড়ান সংসদ সদস্য স্টিকার লাগানো গাড়িতে, যে গাড়ির কাগজপত্রও গত দশ বছর ধরে ঠিক করার প্রয়োজন বোধ করেন নি। দেশে যে একটি আইন ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা বিধি আছে, সেটাও গ্রাহ্য করেন নি। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে অবজ্ঞা করা ছিল তার কাছে মামুলি বিষয়!

এদের ক্ষমতার উৎস কী? প্রধানত দলের সমর্থন। দলের সমর্থনে পাহাড়-সম অপকর্মকারী এসব লোকদের দ্বারা দলের আদৌ কোনো লাভ হয় না। বরং রাজনীতি ও দলের ইমেজকে কলুষিত করার জন্য এহেন মাফিয়া সাম্রাজ্যের গডফাদারাই যথেষ্ট।

পুরান ঢাকার মাফিয়া সাম্রাজ্যের গডফাদারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগের অন্ত নেই। ধারাবাহিক নাটকের মতো একে একে বের হচ্ছে চাঞ্চল্যকর অপকর্মের বহু কাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে পাওয়া গেছে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, টেলি-নেটওয়ার্ক, টর্চার ক্যাম্প ইত্যাদি বেআইনি ও অবৈধ বিষয়। অনুসন্ধান চালালে আরো কত কিছু বের হবে, তার ইয়াত্তা নেই!

যে রাজনীতিকে অপব্যবহার করে মাফিয়া সাম্রাজ্যের গডফাদার তৈরি হয়েছে, সেই রাজনীতিকে কলুষ মুক্ত করতে এদের কঠোরভাবে দমন করা অপরিহার্য। রাজনীতি জনগণের স্বার্থের জন্য, মাফিয়া বা গডফাদারদের অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ার জন্য নয়। ত্যাগী নেতা, কর্মী ও জনগণে গৌরবোজ্জ্বল অবদানে যে জনমুখী রাজনীতি বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক, মাফিয়া সাম্রাজ্যের গডফাদাররা তাতে কলঙ্কলেপন করেছে। দ্রুত শুদ্ধি অভিযান ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশের মুক্ত সমাজ ও বিশুদ্ধ রাজনীতিকে কুৎসিত মাফিয়া সাম্রাজ্যের গডফাদারের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করা বাস্তবতার দাবি।